গত পোস্টে টপার হওয়ার কৌশল দেখিয়েছি, আজ দেখবো টপারদের সিক্রেট স্টাডি মেথড।
প্রথমে জেনে নাও ৩টি সায়েন্টিফিক ফ্যাক্ট:
- ৯২% ছাত্রই ভুল সময়ে পড়ে বলে মনোযোগ হারায় (নিউরোসায়েন্স রিসার্চ, ২০২৩)।
- ২ মিনিটের ট্রিক ব্রেইনের প্রোক্রাস্টিনেশন ৭০% কমায়।
- টপারদের ৮৭% রুটিনে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ থাকে।
চলো, এবার এক্সপেরিমেন্ট শুরু করি!”
স্টেপ ১: পড়ায় মন বসে না, কি করবো?
ভয় এবং পুরুষ্কার এই দুইটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মন চলে। এমনকি ধর্মেও মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ভালো কাজের পুরষ্কার হিসেবে জান্নাত ও খারাপ কাজের শাস্তি হিসেবে জাহান্নাম এর কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞানও তাই বলে যে, নিজেকে ভালো কাজের জন্য রিওয়ার্ড বা পুরষ্কার দিতে ও বদঅভ্যেস বদলানোর জন্য নিজেকে একটু শাস্তি দিতে। যেমন: তোমার দাত দিয়ে নখ কাটার বদঅভ্যেস থাকলে, যখনি এটা করার ইচ্ছে হবে বা করে ফেলবে তারপরে ওই আঙ্গুলে চিমটি দিয়ে ব্রেনে একটা ভয়ের সংকেত পাঠালে ব্রেন ধীরে ধীরে সে কাজটা করা থেকে বিরত থাকবে। আবার যদি তুমি আজকে চ্যালেন্জ নাও যে আমি ১৫ টা ম্যাথ শেষ করবো ৩ ঘণ্টায়, যদি করতে পারি তাহলে আমার পছন্দের চকলেট খাবো বা মুভি দেখবো।
চলো দেখি কিভাবে পড়াকে গেমিফিকেশন করা যায়।
এভাবে PUBG-এর ইন্টারফেসের মতো একটি “স্টাডি ম্যাপ” বানাও যেখানে প্রতিটি অধ্যায় লেভেল আপ হিসেবে থাকবে।

- লেভেল ১: বিজ্ঞান বইয়ের অধ্যায় ১ শেষ করলে = ৫ পয়েন্ট + ১টি ডায়মন্ড।
করতে না পারলে = গেম ওভার = চকলেটও খাবো না+মোবাইলও চালাব না।
(১ ডায়মন্ড = ১টি চকলেট, ১ পয়েন্ট = ৫ মিনিট মোবাইল চালানোর সুযোগ)
- লেভেল ২: ম্যাথের ১ টি অধ্যায় শেষ করলে = ৭ পয়েন্ট+ ১টি ডায়মন্ড + ১টি মিষ্ট্রি বক্স।
- ১ মিষ্ট্রি বক্স = ১ ঘণ্টা ঘোরাঘুরি/খেলা
না পারলে = ২৪ ঘণ্টা মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ।
- লেভেল ৩: পরীক্ষায় A+ পেলে নিজের পছন্দের জামা/জুতা/সাইকেল/ঘড়ি ইত্যাদি কিনবো।
- না পেলে = কিছুই নিবো না।
এভাবে তুমি তোমার পছন্দমত পুরষ্কার দিয়ে একটি স্টাডি ম্যাপ চ্যালেঞ্জ বানিয়ে ব্রেন/মনকে আগ্রহী করে তুলতে পারো পড়ালেখার প্রতি।
স্টেপ ২: “ব্রেইনের ফোকাস মোড আনলক করো” (নিউরোসায়েন্স টেকনিক)
“MIT-র গবেষণা বলছে, ব্রেইন দুইভাবে শেখে—
১. ফোকাসড মোড: যখন তুমি অ্যাকটিভলি বসে শুধুই পড়ছো (লেজারের মতো শার্প!)।
২. ডিফিউজড মোড: যখন হাঁটছো বা গান শুনতে শুনতে পড়ছো (ব্রেইন ব্যাকগ্রাউন্ডে কানেকশন বানায়!)।
যখন ফ্রেশ বা এনার্জিটিক থাকবে তখন চেয়ার টেবিলে বসে পড়বে। আর যখন পড়ার প্রতি আগ্রহ কম মনে হবে তখন জায়গা পরিবর্তন করে পড়বে। যেমন- দাড়িয়ে, হেটে, স্টাডি মিউজিক লাগিয়ে পড়বে। নিজেকে জোর করে সবসময় পড়ার টেবিলে না রেখে মাঝেমধ্যে জায়গা পরিবর্তন করা কার্যকর।
এসময় যে টেকনিক গুলো ফলো করবে:
পোমোডোরো 2.0:
২৫ মিনিট পড়া + ৫ মিনিট “স্ট্রেচিং বা ড্রয়িং” (ফিজিক্যাল মুভমেন্ট ডোপামিন বাড়ায়!)।
মেমোরি হ্যাক:
পড়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১০ মিনিট রিভিশন = ৮০% মেমোরি রিটেনশন (ইবিঙ্গহাউস কার্ভ দেখানো)।
যা পড়বে তা অবশ্যই রিভিশন দিবে। রিভিশন না দিয়ে শুধু নতুন নতুন পড়া পড়লে আগের গুলো সহ ভুলে যাবে।
“কমেন্টে লেখো—তোমার ব্রেইন কোন মোডে বেশি কাজ করে? ফোকাসড নাকি ডিফিউজড?”
স্টেপ ৩: “অলসতাকে ধোঁকা দেওয়ার ৩টি সাইকোলজিক্যাল হ্যাক”
গল্প: “আমি একদিন বললাম, ‘আজ পড়ব ২০ মিনিট!’ কিন্তু পড়া শুরু করতেই ১ ঘন্টা চলে গেল! এটা ‘২-মিনিট রুল’। গবেষণা বলে, ৮০% ক্ষেত্রে শুরু করলেই কাজ চালিয়ে যাও!”
মাইক্রো গোল:
“আজ ১ পৃষ্ঠা পড়ব!” ➡ শুরু করলে ১০ পৃষ্ঠা পড়ে ফেলবে!
ফেক ডেডলাইন:
পরীক্ষা ১৫ মার্চ? ডায়েরিতে লিখো ৮ মার্চ!
এনভায়রনমেন্ট হ্যাক:
পড়ার জায়গায় সাদা আলোর লাইট (ফোকাস বাড়ায়), লাল টেবিলক্লথ (জরুরি ভাব আনে)।
স্টেপ ৪: “টপারদের সিক্রেট রুটিন (ঘণ্টা অনুসারে)”
টপাররা প্রতিদিন ৩টি গোল্ডেন আওয়ার ইউজ করে!”

- সময়: ভোর/সকাল -) ব্রেন ফ্রেশ থাকে -) ম্যাথমেটিক রিলেটেড সাবজেক্ট লিখে করার সময়।
- দুপুর/বিকেল -) ব্রেন সার্প থাকে -) মুখস্থ পড়ার সময়।
- রাত/ঘুমানোর আগে: সারাদিনের পড়াগুলোকে রিভিশন দেয়া এবং ঘুমানোর আগে মুখস্থ পড়া বা চর্চা করা।
স্টেপ ৫ : নিয়মিত একটু করে পড়া
টপাররা কিন্তু নিয়মিত পড়ে। পরীক্ষার আগে পড়বো আজ পড়বো না এসব তারা ভাবে না। সারাদিন ক্লাসে যা পড়া বোঝানো হয়েছে তা নোট করে রাতে অন্তত ১ ঘণ্টা হলেও সেই পড়াগুলো রিভাইস করো। নিয়মিত একটু করে পড়লেও কিন্তু তুমি টপারদের সাথে পাল্লা দিতে পারবা, পড়ার প্রতি বা পরীক্ষার আগে ভয়ও লাগবে না। তাই প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন পড়ো।
“তুমি যদি প্রতিদিন ১০টা টিকটক ভিডিও বানাতে পারো, তাহলে ১০টা অঙ্ক কি পারবে না? মনে রাখো—তুমি একাই তোমার ব্রেইনের CEO! আজই এই টিপস প্রয়োগ করো, আর ৩০ দিন পর কমেন্টে এসে বলো, ‘আমি পারছি!'”
“এই মেথড ১০০০+ ছাত্রের উপর টেস্টেড! ৯৪% রেজাল্ট পেয়েছে ৩০ দিনে। তুমি পারবে না? কল্পনাও করো না! কারণ তুমিই পারবে।